Followers ...

Wednesday, May 22, 2019

স্বগতোক্তি

কাজের ভিড়, তৎক্ষণিক আনন্দের প্রত্যাশায় নিরলস পরিশ্রম আমাদের ভুলিয়ে দেয় কারণবিহীন মন খোলা হাসির উৎস। হারিয়ে যাওয়া পথ, দিকভ্রষ্ট মন যখন এদিকে ওদিকে চেয়ে প্রত্যাখ্যান স্বীকার করে নেয় আর ভাবে এই বুঝি শেষ; মুহুর্ত বন্দী করার অজুহাতে জমিয়ে রাখা থরে থরে সাজিয়ে রাখা ছবিরা যখন দুঃখের সাথে বলে ওঠে - "আমাদের মধ্যে সে তো কোন দিন ছিল না,  কাকে খোঁজার বৃথা চেষ্টা করছ তুমি! " আমার মন তখনও ঘুরেফিরে চলেছে ছোটবেলার অলিগলি। ডাকাতের কালী পূজো, মানুষ বলি, ছমছমে রাতে রাণীর পালকি চলার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া,  আবার কখনও দুয়ো রাণী-সুয়ো রাণী আর রাজপুত্রের রাজকন্যা উদ্ধার- আমার জীবনের উপন্যাস তো এইসব গল্পের বর্ণনায় শুরু হয়ে ছিল- সেই কত বছর আগে ছোটবেলায়। ছোটবেলা মনে করতে ছবি দরকার পড়ে না- একেবারে বেমানান।  শুধু মনে হয় যদি একদিন সব ভুলে যাই!

আমি মাঝেমাঝেই কষ্টের বহিঃপ্রকাশে ভেবেছি-  না, আমাকে কেউ ভালোবাসে না। আমি ভুলে গিয়েছিলাম আমার ছোটবেলায় এমন একজন ছিল যে তার সব ভালোলাগা, সব অনুষ্ঠানে, আবার কখনও কারণ ছাড়াই আমাকে পাশে পেতে চেয়েছে; হাজার লোকের ভীড়ে আমার হাত খুঁজে পেতে চেয়েছে আর পেয়ে গিয়ে চোখের খুশিতে অবলীলায় বুঝিয়েছে আমি তার জন্য কি!  আর আমি বোকা মেয়ে, ভেবেছি যে আমাকে কেউ ভালোবাসে নি! 

আজ আমার ছোটবেলা অনেক দূর দেশ পাড়ি দিয়েছে।  যাওয়ার আগেও আমাকে সে একবার ডাক দিয়েছিল সেই নামে যে নামটা শুনলেই ছোট্ট আমি মিথ্যা রাগ করতাম, কিন্ত পরক্ষণেই ছুটে তার কোলে লাফিয়ে উঠে পড়তাম। আমার এইবার ছুটে যেতে অনেক অনেক দেরী হয়ে গেল। 

Wednesday, January 21, 2015

নতুন কবিতা (2)



এক সময় শীতও ক্লান্ত হয় অপেক্ষায়,
তারাদের দেখা অদেখায় একলা হতে চায়।
ঝাপসা আদল শেষের শেষেও সূচনা জানান দেয়,
এক আত্মস্থ ভালবাসার। 


যা কিছুর ছিলনা ফিরে আসার,
আবার,বারবার।
শুরু থেকে যে শুরু, তার নামান্তর
মুঠিবদ্ধ দীর্ঘ ইতিহাস মনে হয়।

Wednesday, October 15, 2014

তারা, কারা ?

আড়ালের খোঁজে মত্ত
তারা,
কারা?
যারা মনের দেওয়ালে
হাত রেখে
মিছিলের পথ দেখে;
আর ভাবে,
জমির পর
এই আকাশ কার হবে!

তারা,
কারা?
আমার কবিতারা।

Tuesday, March 25, 2014

অন্বেষা




কথার ফাকেঁ,
মনের বাঁকে
কিছু শব্দ জমে ছিল।

সারল্যের জটিলতায়,
কথা কাটাকাটি
কিছু হাঁকাহাঁকি ছিল।

দুঃখ-আড়া্‌ল,
আশেপাশে
বইয়ের পাহাড় ছিল।

আমার তুমি,
তোমার আমি
রূপকথার জগৎ ছিল।

ছিল
একরাশ
প্রশ্ন আর প্রশ্ন।

সবকিছুর মাঝে
একটা অবাধ্যতা ছিল,
আমি – যে জানত,
উত্তর দিতে নেই, শুধু খুঁজতে হয়।


Tuesday, February 26, 2013

নতুন কবিতা (১)



রৌদ্রের কাঠিন্যে ছায়া ঘেরা শীতলতা, তুমি ..
রাস্তার কোলাহলে সেদিনের স্থবিরত্ব, তুমি ..
কাগজে কাগজে রক্তের কাহিনীর ভিড়ে,
প্রেমের কবিতা, তুমি ...
আমার মনের ক্ষণস্থায়ী জটিলতা,
কান্না-অভিমানের জগতে স্থায়ী, তুমি..
যা কিছু ভুল আমার,
তার মাঝে ক্ষমার আদর, তুমি ..
আর
আমার মাঝে 'আমরা'র অস্তিত্ব, তুমি ..
একমাত্র তুমি ।

Wednesday, January 16, 2013

একরাশঃ (১)



কবিতার ভিড়ে এ আমার হতাশা নয়,
ভালোবাসার মাঝে ভালো থাকার ভগ্নাংশ ।
এ খেলা প্রাণের খেলা নয়,
নামেদের আসকারায় জীবনের অপভ্রংশ ।

Monday, October 15, 2012

ভাঙ্গন




আমি এক তাল মাটি নিয়ে
কৃষ্ণ-রাধার প্রেম গড়েছি,
সেই মাটি একদিন,
      দুর্গার চোখের জল হয়ে
      গঙ্গার আশ্রয় খুঁজলো ।
পাকেঁর ভিড়ে শোলার মুকু্ট‌,
কালো হয়ে জীবন বিষিয়ে দেয়;
মুখো্মুখি কিছু স্ংগ্রাম,
অভিধানের মানে বদল করে ।
আজ আর অমৃত নামে না,
বরষা-বৃষ্টি আর একটা ছাতা,
দুই প্রেমপাখিকে ভিজিয়ে দেয় না,
আজ যে বির্সজনের দিন ---
আমার, তোমার, প্রেমের ।

Wednesday, June 6, 2012

সেতু


সেই রাত,

মনের কথা জানত শুধু মন;
এই পৃথিবীর সুদূর কোণে
আব্দার-হাহাকার আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ,
অতীত লিখন মোছার চেষ্টায়
সদা ব্যস্ত হাত ভুলে গিয়েছিল
সে আরেকটি হাতের স্পর্শ পেতে চায় ।

সেই রাতেই,
আরেক  পৃথিবীতে ঘর বেঁধে,
ছিন্ন অদৃশ্য বন্ধন
সুতোয় মোড়ার আবেদন নিবেদনে,
দ্বিধা জড়িত এক মস্তিষ্ক করছিল হিসেব;
আপেক্ষিকতার মোহে কয়েকটি বছর,
দীর্ঘশ্বাসের অপর নামকরণ করেছিল 'কান্না'। 




সেই রাতে এবং পরবর্তী প্রতিটি রাতে,
দুই পৃথিবীর কাছে,
ভালোবাসাদের একমাত্র দাবী ছিল ........
" ছায়াপথ চাই ! ছায়াপথ চাই !"



Saturday, July 30, 2011

পাঁচমিশেলী .....



সকলের কিছু না কিছু সমস্যা ছিল সেদিন ।
   

অরিন্দম-দিপালীর ঝগড়া, তারপর রাতের খুনসুটির পরে এক বিছানায় গায়ে গা লাগিয়ে " আর আমরা কোনোদিন ঝগড়া করব না " -- আজ পর্যন্ত বার সতেরো বলা....


খগেন খুড়োর ঘরের আকাশে টালি লাগানোর টাকা জোগাড় করার সমস্যা ...


স্কুলের পরীক্ষা এতবার আসে, আর   Birthday party মাত্র একবার ---‘not fair’ বলে পড়তে বসা রোমির  সমস্যা ......


সাতাশ হাজারের এই চাকরী না মাত্র পচিঁশ হাজারের চাকরী আর সাথে অফিসের গাড়ী পাওয়ার সুবিধে --- দ্বিধা জড়িত জীবনের চাহিদার মধ্যে পড়ে থাকা সুবিমলের সমস্যা ...


স্নাতকতায় ভর্তির লাইনে দাঁড়িয়ে ঘামে নাকাল দ্যূতির সমস্যা আর ওদিকে রাস্তার যানজটে আটকে থাকা কোনো এক বরযাত্রীর লোকেদের সমস্যা ...


এই সবের মাঝে বস্তির পাশের একচালা ঘরটার দাওয়ায় ঠায়ে বসে থাকা শান্তার অপেক্ষা । এত বেলা হয়ে গেল, ছেলেটা এখন এলো না তার। যতই আড্ডা, কাজ থাকুক, দুপুরের খাওয়াটা খেতে মনোজ ঘরে আসে । আজ এলো না ।সারাটা দিন ছেলেটা না খেয়ে আছে এটা ভেবে শান্তাও মুখে কিছু দিতে পারলো না ।                 
 
                     শান্তা যে বাড়ীতে রান্নার কাজ করে, সেখানকার ঠিকে ঝি চাঁপা নাকি মনোজকে কোন এক মেয়ের সাথে ঘুরতে দেখেছে। শান্তার মনে তেমন কিছু নেই। ছেলে কলেজে পড়ছে, এক-আধতা মেয়ে বন্ধু তো আজকাল সকলেরই থাকে। চাঁপাও তো তারই মতন মুখখু-সুখখু মানুষ, আজকালকার ধ্যান ধারণা অত বোঝেনা বলেই এমন বলে। মনোজ তার মা'কে অনেক ভালোবাসে, আর যাই করুক মা'কে সে কষ্ট দেবে না। ছেলে বড় হয়েছে, নিজের ভালোমন্দ সে নিজেই ভালো বোঝে। এই নিজেকে বুঝিয়ে শান্তার মন শান্ত হয়। আবার পরক্ষণেই অস্থির হয়ে ওঠে; সন্ধ্যে হতে চলল, মনোজ তো এখন এলো না !
                       
                    ছুটে আসা চাঁপার আচঁল ঢাকা মুখ দেখেই শান্তার মনটা কেঁপে ওঠে। চাঁপা কিছু না বলেই টানতে টানতে  নিয়ে যেতে থাকে শান্তাকে। "আরে, মুখপুরীটা, দোড়টাও দিতে দিল না, হয়ত বরটা আবার মদ খেয়ে অসভ্যতা আরম্ভ করেছে" -- শান্তা এমনটাই ভাবলো। চাঁপাকে হাজার বার জিগ্যেস করলেও ফোঁপানো ছাড়া মুখ দিয়ে দ্বিতীয় কোন শব্দ বের করে না। লেভেল ক্রসিং ধারে এত ভিড়!  এত ভিড়ে শান্তাকে কেন নিয়ে এল চাঁপা ! শান্তা অঞ্জান হওয়ার আগে এক নেতা গোছের লোকের আওয়াজ শুনতে পেল -------

“ একদম প্র্যাক্টিকাল নয় ছেলেটা । মেয়েদের এদিক ওদিক ঘুড়িয়ে চড়িয়ে ছুঁড়ে ফেলতে হয়, তা নয় প্রথমবার লেঙ্গি খেয়েই ট্রেনের সামনে ছুটলো । নে নে শুরু কররে ভুবন, ছেলেটার নামটার পরে যেন পার্টীর নামটা ঠিক দু'বার থাকে। আর একটু জোরে বলিস ভাই। হাতে সময় নেই একেবারে ... আরে ছেলেটার নামটা যেন কি ছিল ! ... ? "!



Wednesday, May 18, 2011

দেবর্ষি ( নবম )

সূচনা  : 

রাত জেগে এদিক-ওদিক ভেবে চলা এক বদঅভ্যাস, আর ভাবনার সাথী যখন কল্পনাই, তখন , কিছু কবিতাই সঙ্গী হয়ে মন খারাপের তীব্রতা দূরীভূত করে । তখন অনেক রাত, নাহ , সকালের পথে চলতে থাকা দিনের ইঙ্গিত ছিল .... লাল চোখ এক মুখাবয়বের আবহে বিভর ছিল । কিন্তূ সময় তো শেষ হয়ে গিয়েছিল, ছেড়ে আসা সময়ের বন্ধু হতে চাওয়া এক বোকামি-পাগলামি ! সারা পৃথিবী সেই পাগলামি দেখবে বলে সদা ব্যস্ত । কিন্তূ এমনটাতো হতে দেওয়া যায় না ...তাই জায়গা খুঁজে পাওয়া গেল ডায়রীর রুল টানা পাতায় ।

নিরর্থক ভরসায়, আকাশ ভোলানো স্নিগ্ধতায় আমি এক অন্য মানুষ , যে নামের ভিতর আর মানে খুঁজতে চায় না, কাজের মাঝে অনাবশ্যক জীবন খুঁজে চলে । কিছু পথ শেষ হয়না, শুধু কিছু জমানো পাথর পথ আগলে দাঁড়ায় । সেই সব পাথর ভাঙ্গার চেষ্টা .. শুধুই চেষ্টা ....



চার রাস্তার মোড়ে
বাস যায় ছেড়ে,
দিক শূণ্য চোখ
মন-মরার শোক,
ভাব সাগরের পাড়
জীবন ছাড়খার |
দেবর্ষি ঘাড়
ফিরিয়ে চায়,
আমার রাতের
এক আকাশ অপেক্ষায় |
কিন্তূ ....
আমি আজ নেই
পুরানো পথের বাঁকে,
ভাঁজে বন্দী চিঠির
খয়েরী রং-এর ফাঁকে |
মিছ্‌রির দানা
তিক্ততা বেচে,
ব্রীজের নীচে
বৃষ্টি খানিক ভালোবাসা খোঁজে  |
ঘরের মোহ
সর্বস্ব দাহ,
সীমাহীন কল্পনা
স্বপ্নেরা আর তো ফিরে আসেনা |



Sunday, April 10, 2011

দেবর্ষি (সপ্তম)



সূত্রপাত : কলেজের  fest এ নিজের নাম যখন শুনলাম, একটু অস্বস্তি শুরু হয়েছিল । চিরকাল মনের কথা কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করে এসেছি; কেউ বুঝেছে-কেউ বোঝেনি কেউ বোঝার চেষ্টা করেছে-কেউ করেনি; সোজা হিসেব। হঠাৎ করে শুনলাম আমি আমার কষ্টের কারণ, খারাপ লাগার পিছনের ঘটনা নিজেই জানিনা ! হয়ত জানিনা, কিংবা জেনেও অবহেলা করার চেষ্টায় মগ্ন থাকি । খারাপ তো অনেক কিছুতেই লাগে, কখনও বলা যায়, আবার কখনও বলা হয়ে ওঠেনা। কারণ বলার পরেও যদি একই খারাপ বারবার লাগে, তখন মনে হয় বলা বা না বলাতে কিই বা পার্থক্য থাকে ! ...।

আমি চিরকাল খুঁজে এসেছি ..(?) ... অবহেলায় -- অসময়ে -- বর্তমান বা ভবিষ্যৎ -- অবোধগম্যতায় -- অদেখা --ঘৃণা -- আত্মসমালোচনায় -- নেতিবাচকতায় -- জটিলতায় ...সর্বত্র ।

সত্যি ! কেন কবিতা লেখা হয় !




আজও এক দেবর্ষির দিন ,
কবিতাহীনের দেশে নতুন কবিতার দিন ।
তারা বলে  ----
আমি একাকীত্বের গল্প বলি ,
তারা বলে চলে ----
আমিতো রং-চটা জল-ছবি আঁকি ,
তারা আমাকে চেনেনা  ..
দেবর্ষি ...
তোমার অবস্থান আমার রন্ধ্রে।
আজও খেলার ছলে
উড়ো কাঁচ কথা বলে ,
এক হাজার বছর পরে
হাত এক নতুন ছন্দ পেল ,
দেবর্ষি ..
তুমি শুধুই কথা বল....
আজও সবার ভিড়ে আমাকে ভুলে যাও,
অপেক্ষার হাত আর ধরতে না চাও ।
দেবর্ষি...
তুমি তাদের বুঝিয়ে দিও
কেন আমি কবিতা লিখি !
কেন এত কথা বলি !
দেবর্ষি ..
ঘুম হবেনা যেনেও ,
আমি যে আজও স্বপ্ন তৈরী করি ..




Friday, February 25, 2011

খেলার ছলে...




স্বীকারক্তি:


বেশ কিছুদিন আগের লেখা এটি । এখন মনে পড়েনা কি ভেবে লিখেছিলাম ! তবে কল্পনা নির্ভর লেখা নয়, কল্পনায় ভর করে আমি হয়ত কোন কিছুই লিখতে পারিনা। বলা যেতে পারে, আবেগ নির্ভর লেখা এটি ।


ভূমিকা:
এক, দুই, তিন করে গুনে গুনে কবে যে হাতের কড় কম পরে গিয়েছিল বুঝতে পারিনি। সেই সময় তো আর মনেও পড়ত না কে কি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ভুলে গিয়েছিলাম এক অপবাদ -- হয়ত আমি সেদিনও ভালোবাসতে পারিনি, আজও শিখে উঠতে পারিনি। আমি আজও তো ভা্লোবাসার পথ দেখবো বলে চোখ পেতে থাকি। যদি নাই ভালোবাসলাম তো কেন একলা সময়ে চোখ বাস্তবতা খোঁজেনা, দুর্বলতা বোঝেনা ! আবেগের অনুভূতি সাদা পাতায় জায়গা পেয়েই খুশী হয়ে যায়, মানুষের মন নাই বা পেল !
কিন্তূ হয়ত আমি এটা ভুলে গিয়েছিলাম যে, সব কিছুই একদিন অতীত হয়ে যায়। এটাই বাস্তব। অভ্যেস একদিন ভালোলাগার দমকে পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তাকে তো পুরানো রাস্তায় ফিরতে হবেই। মনকে তো মানতেই হবে -- সবই এক সাময়িক দৃশ্য ...।



রাস্তার এক চাঁদ ঝলকে
আঁখি দুই আয়ত্ত করে স্বপ্নবহ্নি,
আজ-কাল-অবেলার অদেখায়
জীবন নতুন প্রয়োজন লেখে ।
দুষ্ট-নষ্ট রাত
গান-কথা-ঝগড়ার সূত্রপাত।
ভিড়-ছন্দ ফুলে নেই গন্ধ,
শুধু ... শুধু ....
প্রথম আদর মনে করে গভীরতর রন্ধ্র ।



Friday, January 21, 2011

ভালোবাসা ....



নির্জনে বয়স পালিয়ে প্রেমের গোধূলি,

আজও এক অশান্ত বিকেলে অদৃশ্য ভালোবাসা যাপন।
সেবেলা সে নদীতীরে গুটি কয়েক আলোছায়া লুকায়,
দেশ ছাড়া দুই প্রাণ দিন গোনে ফিরে পাওয়ার আবহাওয়ায়।
মধ্যবর্তী কাহিনির বাঁধনে প্রান্ত দু'য়ের চিরকালীন দূরত্ব,
এক আকাশ মেঘের রাজ, বৃষ্টি ছোঁয়ায় অকাল বৈরাগ্য ।


Sunday, January 2, 2011

দেবর্ষি (ষষ্ঠ)


কিছু কথা :কবিতা লেখা একটা অভ্যাস । একটি প্রেম । আর ভালোবাসার অলীক ধারণা, বিরহ, দুঃখ, কষ্ট, সঙ্গবোধ --- এসব কিছুই হল অদ্ভুত রকমের না বলতে পারা রোমান্টিকতার সঙ্কলন । পাওয়ার মাঝে তীব্রতা আসেনা, তা আসে না-পাওয়ার ব্যথায়, কিছু স্বপ্ন ভাঙ্গায়, আর আশার বারংবার  ব্যর্থতায় । নতুন বছরের প্রারম্ভে তাই রইল আশা করার প্রতিশ্রুতি, আরও আরও অনেক কবিতা লেখার দাবী, আর বাস্তববাদী রূপে পরিণত হওয়ার অপূর্ব এক চাহিদা ।



------------------------------
শত সহস্র মুহূর্ত চলে যায়,
এক একটি বছরের এই মেলায় আসে যায় ..
সহাস্য কিছু পরিহাস,
প্রেমের বসন্ত মাস ।
'দেবর্ষি' রা থমকে থাকে,
মনের আল্‌গা খাঁজে-ফাঁকে ।
একলা রাতে একটি মেয়েই
শুধু থাকে অপেক্ষায়,
সময় শেষ, ইচ্ছের নিঃশেষ,
শুধু 'দেবর্ষি' নামেরই মানে হয়না ।

দের্বষি (পঞ্চম)



ভূমিকা:: 'দের্বষি'... একটি নাম নয়....মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা কিছু অব্যক্ত কথাদের প্রকাশ হওয়ার মাধ্যম....'দের্বষি' এক কাল্পনিক চরিত্র, যে রাতের আঁধারের একলা মুহূর্তে সঙ্গ দেয়। সাহায্য করে কিছু কবিতা লিখতে। বাস্তব জগতে 'দের্বষি' রা হয়না, তাদের হতে দেওয়া চলে না।
         নিঃসঙ্গতার মাঝে কিছু মানুষ শুধু সময়ের খেয়ালে জীবনে আসে, কিন্তূ জীবন তো পথ তৈরী করার নাম। ।....একসাথে বা একলা .......




মারিয়ানার লালচে আঁধারে
তোমায় আমি দেখেছি, দের্বষি,
চরিত্র সাজিয়ে স্বপ্ন বুনেছি,
নববর্ষে রোজ ঘর সাজিয়েছি ।
নামের সন্ধি বিচ্ছেদে
পদবী লুকিয়ে
ভালোবাসার কবিতায় ঘর বোঝাই,
আজ কিছু কাগজ
নৌকার পালে ভাসে

ধূসরতা মেখে রং খেলে কৃষ্ণের রাই ।
আমি প্রমাণ করব ..
কথা রইল, দের্বষি ,
তুমি কাল্পনিক আছ আর থাকবে ,
শুধু কিছু লেখার সঙ্খ্যা বাড়বে ।
মন চুঁইয়ে ভালোবাসা নামলে
দিক নির্ণয়ের কাঁটা দক্ষিণমুখী,
না আজ ষোলোর মুহূর্ত সঙ্গ দেয়,
না দেয় দের্বষি ; তবুও প্রেমেরা চিরসুখী !







Thursday, December 16, 2010

দেবর্ষি (চতুর্থ)


আজ আমি আর কবিতা লিখতে পারিনা
দেবর্ষি, তোমার মূহুর্তদের ভয়ে
পুরনো জন্মদিনের কথা মনে করিনা;
এক আকাশ ওড়ার আনন্দ,
তোমায় যেমন প্রথম বৃষ্টির কথা ভুলিয়েছে,
সেই নেশা কেন আমায়
কোন নোংরা কোণ খুঁজে দেয়না ?
আজ আর কবিতা তোমায় উৎসর্গ করা যায় না,
তাই আমি আজ আর কবিতা লিখতে পারিনা ।
ব্যথা তাই ভাষা-হারা, 
ডায়রীর সাদা পাতারা
একাকীত্বে ভরা ...
রজনীগন্ধা আজ আর প্রিয় ফুল নয়,
পড়াশুনার ভালবাসাও মিথ্যে হয় ।
দেবর্ষি, প্রমাণ করেছ তুমি,
কোন সূত্র লিখে দাওনি,
আমার সাথে থেকেও তুমি আমার হওনি ।
আজ তাই গল্প লিখি,
সিনেমা দেখি,
দেরি করে ফিরি ঘরে,
'না'-চিহ্ন দেখেও চারিদিকে
চোখ আর সেই অভিমান না করে ..
আমি তো আছি আগের মতই
সদা গম্ভীর, আর একটু অগোছালো,
দেবর্ষি,
আর একটি বার দাঁড়িয়ে যেতে,
আমার কিছু কথা বলার ছিল ।

দেবর্ষি (তৃতীয়)



দেবর্ষি,
কথা ছিল এক-একটি প্রেম পত্র লেখার,
না জানা কিছু জীবন দেখার ।
হাত ধরে ঝড় পার হব,
তুমি মেঘ, আমি আকাশ ছোঁব ।
একদিকে ঝিল তখন
আর একদিকে তোমার কাঁধ,
দেবর্ষি,এখন রাতে গভীর অবসাদ।
ভীষ্মের পণে শত-সহস্র তীর সান্ত্বনা দেয়,
তুমি শুধু ঘুম ভাঙ্গাও অতি অবহেলায়।
প্রতি ব্যথায় উদাহরণ হয়ে ঝরো,
দেবর্ষি, তুমি বড্ড আবদার কর।
কাজের সন্ধানে 'কর্মক্ষেত্র' কেনো,
শেষ বেলায় অপেক্ষায় রব, এটাও একটু জেনো।
ঝারবাতি যখন অস্তাচলে,
সমুদ্র তুমি খোঁজ,
ডুবে যাওয়া মেয়ে, ভেঙ্গে যাওয়া কাঁচ,
দেবর্ষি,
আজও তুমি অবুঝ চরিত্র সাজো ।




দেবর্ষি (দ্বিতীয়)



...যত দেবে দুঃখ ..

আমি থাকব আরও আমার মতন ।
দাও যদি সাদা,
আমি দেব যুদ্ধ ।
যদি আমায় যাও ভুলে,
মনের দরজায় দেব হাওয়া ।
আর যদি বল .-- ' দূর ..দূর .. দূর হ তুই ',
আমি মাত্র বলবো,
দেবর্ষি,
' মনে আসো  ।

আমি শুধু জানি, 
কেবলই মানি,

রাস্তায় অবহেলায় পড়ে থাকা রজনীগন্ধার দল,
একবারের জন্য পলাশ ছুঁতে চায় ।


Deborshi (Prothom)



Iti.... Deborshi ,

Tumi bodle gecho !
Amar du chokher bhasa
aaj ar porte parona tumi,
moner bytha, tomar modhdhe
jagai na kono anubhuti;
hasyokor hoe roe geche
amar kakuti.
Deborshi ! Tumi sotti bodle gecho !
college er seshe
poronto bikele,
thanda hawoar ador
jokhon chuye jeto tomake- amake,
sedin.... sedin er kotha mone pore?
...tumi hoito ar mone korte parona;
jedin tomar hath
prothom baar dhorechilam
sei usnota sei kompon;
ajo protimuhurte sei sihoron...
notun kore vabai amai.
jano Deborshi.......
Tomar pase thakte pere
sedin mone hoechilo
ek purnotai vore geche hridoy
.. er theke besi chahida
chilona kono din e amar.
govir raat er tomar konthoswor
ar proti kotha
protita sobdo ami ajo suni,
karon khuje paina
keno, keno....
ami ajo sob bhule jete parini.
Sei jedin college er anusthane
pagol er moto tomai dekhe jachchilam,
asepaser sob koto ,koto dure thele fellam,
sedin prothom bar bujhechilam
koto bhalobasi tomai !
er por ekdin, tumi kotha bole
bujhiechile amai...
bachte parbe na, sathe ami na hole...
ki hobe bolo....
sei sob kotha gulo?
aj smritir bhitor hatrale
sudhui jomat badha dhulo.
boye geche onek somoi
onek kotha,onek protishruti
aro koto ki .......
jibon ningre nieche sob sukh,
kha(n)char vitor ami aj..Jibon pakhi.

Ar ekdin er kotha khub mone pore,
bristir majhe amra dujon,
otit-bortoman-bhobissat
sob mone hoechilo ek.
thomke jaoa somoi
ar neme asa sandhya
durer sada ful
mone hoi aj, chilo rajanigondha.

koto kichu vebechilam eksathe
amar mukhta mone korte na paro
mon tao bhule gele?
Deborshi..................
Tumio bodle gele !!